ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 8 বার পঠিত

যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সাম্প্রতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অডিটে বাংলাদেশের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরা পড়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে ৯৪ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে ৯৮ শতাংশ স্কোর।
রোববার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৫ সালের মূল্যায়নের তুলনায় এবার দুই বিমানবন্দরের স্কোরই বেড়েছে। গত বছর শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে হয়েছে ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে ওসমানী বিমানবন্দরের স্কোর ৯৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৮ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এই অডিটে দুই বিমানবন্দরের যাত্রী, কার্গো ও মেইল পরিবহনসহ এভিয়েশন সিকিউরিটির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স
কার্গো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘অ্যাডিশনাল মেজারস অ্যাসেসমেন্ট’-এ বাংলাদেশ শতভাগ কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে।
বেবিচকের ভাষ্য, কার্গো ও মেইল পরিবহনে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রতিফলন এই ফলাফল।
বেবিচক মনে করছে, ডিএফটির অডিটে পাওয়া এই অগ্রগতি দেশের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর ফলে যাত্রী, এয়ারলাইন্স, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি অংশীজনের আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।
ইইউর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সহায়ক হতে পারে
বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা শর্তের মুখোমুখি হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপগামী কার্গো ও মেইল পরিবহনে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা, সময় ও খরচের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এইচআরসিএম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইইউর নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
সামনে আইসিএওর গুরুত্বপূর্ণ অডিট
ডিএফটির এই অডিট ফলাফল আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিটের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় আইসিএও অডিটে বেবিচক সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কাঠামো মূল্যায়ন করা হবে।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, বেবিচকের এভিয়েশন সিকিউরিটি (অ্যাভসেক) বিভাগ, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
Posted ১১:২০ এএম | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।